ইদানিং সিএনজি ওয়ালারা নাকি অনেক ভদ্র হয়ে গেছে। তাদের মাঝে আগের সেই মহাজনী মার্ক এটিচিউড নাই।  একেই বলে ঠেলার নাম বাবাজি। সিএনজি ওয়ালারা নাকি আজকাল মিটারেতো বটেই , সময় সময় মিটারের চাইতেও কম ভাড়া দিয়ে যাত্রী সেবা দিতে চাইছেন।  গত বছরেও কিন্তু বিষয়টা এমন ছিল না।  সিএঞ্জিওয়ালারা পায়ের উপর পা তুলে পান খেতেন আর সিগারেটে আরাম করে সুখটান দিতেন।  যাত্রী দেখলে এমন ভাব দেখাতেন, ওদের না নিলেও তার দিন আরাম করেই চলে যাবে। মিটারে যাওয়ার কথা শুনলেতো এমন ভাবে চমকে উঠতেন , জেনো কেউ তাদেরকে কেউ বলৎকার করার  প্রস্তাব দিয়েছেন। মিটারের চাইতে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে চাইলেও তাদের মন গলিত না।  মিটারের চাইতে ডাবল দিলেও তাদের মুখ শুনা থাকতো।
 এই ইতিহাস ১ দিনের না।  প্রতি বছর তারা আন্দোলন করে মিটারের রেট সংশোধন করতো আর ২ দিন যেতে না যেতেই প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে আবার দ্বিগুন ভাড়া হাঁকানো শুরু করতেন। এদিকে অসহায় যাত্রীরা দিনের পর দিন মুখ বুজে তাদের অন্যায় আবদার শুনে গেছেন। কারন তাদের করার কিছু ছিল না।
কথিত আছে , এই সিএনজির মালিক অনেকেই প্রভাবশালী।  তাই প্রশাসন জেনে শুনেই  হয়তো চোখ বন্ধ করে থাকতেন। প্রশাসনের কাছে সিএনজি সংক্রান্ত সাহাজ্যের কোনো নজির নাই।
 কিন্তু ইন্টারনেটের এই যুগে উবার /পাঠাও এর মতো সার্ভিসের কারনে তাদের বাড়া ভাতে যেন ছাই ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।  তারা খুব গোস্সা করলেন।  তাই উবার আর পাঠাও এর বিরুদ্ধে তারা আন্দোলনে নামলেন।  এতে মানুষ বিরক্ত হবার বদলে খুশি হলো।  কারন যুগ বদলে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন আর আর তাদের উপর জিম্মি না।  মোবাইল APP এ এক ক্লিক করলে সেবা দোর  গোয়ায় এসে হাজির হয়। তাই সিএনজি ওয়ালার মাথায় হাত।  কেউ তাদের আন্দোলন নিয়ে এখন আর ইন্টারেস্টেট না। তাই আজ আন্দোলনের মধ্যেও অনেক সিএনজি ওয়ালা রাস্তা তাদের গাড়ি নিয়ে বের হয়েছে।
 
এই আন্দোলনে সিএনজি ওয়ালাদেরতো কোনো উপকার হয় নাই , বরং যারা উবার কিংবা পাঠাও নামক সার্ভিসের সাথে পরিচিত ছিল না , আজকে তারাও সেই সব সেবা নিচ্ছে।
গেলো ১০ বছর প্রশাসন যা করতে পারে নাই , প্রাইভেট কম্পানি সেটা করিয়ে দেখেছে।
 
 অবশ্য এক্ষেত্রে সরকারের অনেক ভূমিকে আছে।  এটা আসলে ডিজিটাল বাংলাদেশেরই ফসল।  ইন্টারনেট আর মোবাইল সেবা এখন সমাজের সর্বনিম্ন স্তরের এসে পৌঁছেছে।  মানুষ এখন অনেক এলার্ট।  মহাজনের দিন ফুরিয়ে আসছে।  সুতরাং সময় থাকতে সাধু সাবধান।  আজকে সিএঞ্জিওয়ালার উত্তর গজব নেমেছে , কালকে হয়তো অন্য কারো উপর গজব নামবে। সোজা আংগুলে ঘি না উঠলে , আংগুল কিভাবে বাঁকা করতে হয় , তা আমরা শিখে গেছি।