Start your busiess with less investment

আজকাল বাংলাদেশ বিশেষ করে ঢাকা শহরে অনেকেই ছুটি পেলেই বেড়াতে চান। তাদের কাছে অল্প সময়ের ট্যুর অনেক বেশি প্রিয়। ইদানিং অনেকেই এই ধরনের ট্যুর আয়োজন করে থাকেন। আপনিও এই ধরনের ট্যুর পরিকল্পনা করতে পারেন। এজন্য আপনার যা লাগবে
১) একটা মাইক্রোবাস বা মাইক্রোবাস ভাড়া দেয় এমন প্রতিষ্ঠান
২) বিক্যাস বা এই ধরনের একাউন্ট
৩) কোথায় বেড়াতে নিয়ে যাবেন, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট আইডিয়া
৪)ফেইসবুক পেইজ
আপনার টার্গেট থাকতে হবে দিন শেষে যেন আপনার সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ২০০০ টাকা থাকে। একমাসে যদি আপনি আপনি ১০ টা ট্যুর পান, তাহলে মাসে ২০,০০০ টাকা। কে কাকে মাগনা এতো টাকা দেয়। তবে যদি ১ দিনের বেশি সময়ের ট্যুর হয়, তা হলে লাভের টার্গেট আরো বেশি হবে। তবে ধরে নিচ্ছি আপনি আপনি এই প্রথম ট্যুরের মাধ্যমে ইনকাম করতে চাইছেন। এক্ষেত্রে ১ দিনের ট্যুর প্যাকেজ দিয়েই শুরু করুন। কারন এখানে অনেক লার্নিংকার্ভ আছে। আপনি যদি ঠিক মতো প্রথম ট্যুরটি পরিচালনা করতে না পারেন, তাহলে দ্বিতীবার কেউ আপনার কাছে এই সার্ভিস নিতে চাইবে না।
প্রথমে আপনি একটা ছক করুন, কোথায় কোথায় দিনে গিয়ে দিনে ফেরত আসা যায়।
উদাহরণ স্বরূপ
১) মৌনট ঘাট
২) মাওয়া ঘাট
৩) কুমিল্লার লালমাই পাহাড়
৪) গাজীপুর সাফারি পার্ক
ইত্যাদি আরো অনেক জায়গা আছে। প্রথমে যেকোন একটা ট্যুর অপারেটরের সাথে আপনিও বেড়াতে যান। সেখানে আপনি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। এর পরে নিজের কাজে নামে পরুন।
নিজে ট্যুর প্যাকেজ বাজেট করুন এবং হিসাব করে দেখুন, একটা মাইক্রোবাসে কতজন কনফার্ম হলে আপনার টার্গেট ফুলফিল হবে। মনে করি আপনি মাওয়া ঘাটে যাবেন। সেই প্যাকেজে ব্রেকফাস্ট এবং লাঞ্চ থাকবে। আপনি যদি ৮০০ টাকা সাবস্ক্রিপশন ধরে ফেইসবুকে একটা ইভেন্ট ইনভাইট করেন এবং ৮ জন আপনার সাথে টুরে যেতে চান, তাহলে ৬৪০০ টাকা। একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করতে আপনার প্রয়োজন ৩৫০০ টাকা এবং খাওয়া দাওয়া এবং আনুসাঙ্গিক ১৫০০ মোট ৫০০০ টাকা। তাহলে আপনার লাভ থাকবে ১৪০০ টাকা। এবার নবম সিট জেটা আপনি হিসাবে ধরেন নাই, সেটা থেকে খরচ বাদ দিয়ে আরো ৬০০ টাকা। দিন শেষে আপনার ২০০০ টাকা। ইনিশিয়ালি আপনাকে কষ্ট করতে হবে। কিন্তু যখন দেখবেন আপনার কাছে টাকা আসছে, আপনি এসিস্ট্যান্ট রেখে দিবেন। আপনি শুধু তদারক করবেন। ড্রাইভারকে কিছু বকশিশ দিলে এসিস্ট্যান্ট রাখা লাগবে না ফলে আপনি চাইলে ১০টা সিট ইউজ করতে পারবেন।
প্রতিটি স্পটে ই খাওয়ার রেস্ট্রুরেন্ট থাকে। আপনি চাইলে ওদের সাথে চুক্তিতে আসতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে অনুসঙ্গিক কোন কিছুর জন্য অলমোস্ট চিন্তাই করতে হবে না। আপনি আপনার ব্যবসা বাড়ানোর জন্য অনেক চিন্তা এবং কাজ করার সুজোগ পাবেন। বড় বড় ট্যুরের পরিকল্পনা করতে পারবেন।
সাকসেফুল কিছু ট্যুর শেষে দেখবেন প্রতিমাসে আপনার দিনে হয়তো ২ টা করে টিম পাঠাতে হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে আপনার ইনকাম দ্বিগুন হয়ে যাবে। আশা করা যায় বছর শেষে আপনি মাইক্রোবাস কিনে ফেলতে পারবেন। তখন ট্যুর অপারেটিং cost অনেক কমে যাবে। অলস সময় মাইক্রোবাস অন্যদিকে ভাড়া দিতে পারবেন।
টাকা ইনকামের জন্য কষ্টের কোন বিকল্প নাই। পুঁজি যত কম, কষ্ট কিছুটা বেশি। এই কষ্টকে যিনি জয় করতে পারবেন, তিনি সফল হবেন। কিন্তু বিজনেস টা স্টার্ট করতে আপনাকে অলমোস্ট কোন খরচ করতে হবে না। বিক্যাসের মাধ্যমে আপনার নূন্যতম গেস্ট হলেই আপনি সেই ট্যুর অপারেট করবেন। সুতরাং দেখতেই পাচ্ছেন এই বিজনেসে পুরাই নগদ কারবার। দিন শেষে নগদ ব্যালেন্সই আপনার লাভ। ও এর একটা কথা। আপনি যেসব জায়গায় ট্যুর অপারেট করবেন, সেখানের জন্য কিছু সুভিনিয়র বানিয়ে রাখতে পারেন। ঢাকার কাঁটাবনে অনেক দোকান আছে যারা কম দামে সুভিনিয়র বানায়। আপনি সেই সুবিনিয়র বিক্রি করে প্যাসিভ ইনকাম করতে পারেন।
আপনি ট্যুরে ডিএসএলআর ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখতে পারেন, স্পেশাল অফার হিসবে এখান থেকেও টাকা বানাতে পারেন। আসলে আপনি যতটুকু চিন্তা করবেন, আপনার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে।

পরিশেষে একটা কথা, আপনার যেই ফেইসবুক আপনার প্রডাক্ট প্রমশনের জন্য ব্যবহার করবেন, সেটাকে ইনিশিয়ালি প্রমোট করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বাজেট রাখতে হবে। আর সেই প্রমোশন আপনি নিজেই করুন, এতে আপনার খরচ কম হবে। আর আপনি নিজে বুঝে শুনে আপনার টার্গেট অডিয়েন্স বানাতে পারবেন। এর ফলে আপনি সেই পেইজ দিয়ে মূল ব্যবসার সাথে সাথে প্যাসিভ বিজনেস করতে পারবেন। মনে রাখবেন।একটা বড় পেইজ দিয়ে অনেক ধরনের কাজ করা যায়।
প্রতি সপ্তাহে আমরা বিভিন্ন টিপস দিয়ে আটটিকেল লিখি। তাই আমাদের পেইকে লাইক দিয়ে সবসময় সাথেই থাকুন। বলা যায় না, কখন কোন টিপস আপনার কাজে লেগে যায়।